Menu Close

Photography – নবীশদের জন্য মৌলিক টিপস

Photography - কোথায় ও কখন শুরু?

ইতিহাসের জ্ঞান যেহেতু দিতে আসিনি তাই খুব সংক্ষেপে বলব। Photography বা ফটোগ্রাফি শব্দটি মূলত গ্রীক শব্দভান্ডার থেকে উৎপত্তি হয়েছে যার অর্থ “আলোর মাধ্যমে অঙ্কন”। ক্যামেরার ধারণা ১ম এসেছিল প্রাচীন চীন থেকে যেটাকে সংক্ষেপে ‘ক্যামেরা অবস্কিউরা’ বলা হয়ে থাকে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে গেলে আরেকটা আর্টিকেল লিখতে হবে।

ক্যামেরার ধারণার মূল বিস্তার ঘটান আরব পদার্থবিদ ইবনে আল হাইশাম। তিনিই সর্বপ্রথম সত্যিকারের পিনহোল ক্যামেরা আবিষ্কার করেছিলেন। এছাড়া ফোকাল পয়েন্টের সাথে পিনহোলের সম্পর্ক এবং ‘আফটারইমেজ’  এর ধারণাও এসেছে এই মহান ব্যক্তির হাত ধরে। তার রচিত ‘বুক অব অপটিক্স’ পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে অনন্য একটি অবদান।

হাইশামের মূলনীতি, অ্যালবার্টাস ম্যাগনাসের গন্ধক আবিষ্কার ও জর্জ ফেব্রিসিয়াসের সিল্ভার ক্লোরাইড আবিষ্কার ক্যামেরা তথা ফটোগ্রাফিকে কে আরও বাস্তবতার পথে এগিয়ে দেয়। অবশেষে ফ্রেঞ্চ আবিষ্কারক নিসেফর নেপ্স ১৮২৬ অথবা ১৮২৭ এর কোন এক সময়ে প্রথম নিজের আবিষ্কৃত ক্যামেরায় ছবি তুলতে সমর্থ হন। ছবিটির নাম “View from the Window at Le Gras”।

Photography - টিপস ও ট্রিক্স

রুল অফ থার্ডসঃ

যে ছবিটি তুলবেন, মনে মনে সেটিকে দুইটি সমান্তরাল এবং দুইটি খাড়াখাড়ি লাইন টেনে সমান নয়টি বর্গক্ষেত্রে ভাগ করুন। এতে ছবিটিতে মোট চারটি ছেদবিন্দু সৃষ্টি হবে (১ নং উদাহরণ দেখুন)।

আপনার সাবজেক্টকে এই চার ছেদবিন্দুর একটি/দু’টি/তিনটিতে (চাহিদামাফিক)ফেলে ছবিটা তুলুন। সাধারণ যে কোন ছবি থেকে ভিন্ন আমেজ পাবেন (২ নং উদাহরণ দেখুন)।

আজকালের অধিকাংশ ক্যামেরায় “Gridline” নামে General একটি অপশন থাকে। সেটি ব্যবহার করলে মনে মনে অনুমান করার ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন। আর একটি কথা, আপনি যদি রুলস অফ থার্ডের নিচের শেষ ছেদবিন্দুটিতে সাবজেক্টকে ফোকাস করেন, তবে সেটা আরও ভাল ফল দেবে (৩ নং উদাহরণ দেখুন)। এটাকে বলে “দ্য গোল্ডেন রুল”।

সবশেষে বলতে চাই, রুল অফ থার্ড ব্যবহার না করলে যে ভাল ছবি তোলা যাবে না তা নয়। তবে সত্য কথা বলতে কি, নিয়ম ভেঙ্গে কিছু করার মানে হল আপনি নিয়মটা জানেন এবং নিয়মটা ভাংছেন আরও ভাল কিছু উপহার দেবার জন্যই।

এবার দেখব Photography-র বিভিন্ন পটভূমিকায় রুল অফ থার্ডসের প্রয়োগ।

ল্যান্ডস্কেপিং-এর (Landscape Photography) ক্ষেত্রে আপনি রুল অফ থার্ডস ব্যবহার করে খুবই মজা পাবেন। শর্ত এখানে দু’টি। প্রথমটি আমরা কাল জেনেছি- সাবজেক্টকে রাখতে হবে ছেদবিন্দুতে। দ্বিতীয়টি হল- ল্যান্ড এবং স্কাই দু’টোর যে কোন একটিকে, পুরো ছবির উপরের এক তৃতীয়াংশ অথবা নিচের এক তৃতীয়াংশতে ফেলতে হবে। অর্থাৎ ল্যান্ড যদি এক তৃতীয়াংশ হয় তবে স্কাই হবে দুই-তৃতীয়াংশ অথবা এর উল্টোটা। ১ নং উদাহরণ দেখুন।

পোট্রেইট ফটোগ্রাফির (Portrait Photography) জন্য আপনি চেষ্টা করবেন সাবজেক্টের চোখ দুটি উপরের দুই ছেদবিন্দুতে এবং চিবুকের দুই পাশ নিচের দুই ছেদবিন্দুতে রাখার জন্য। এক্ষেত্রে, ক্যামেরা অবশ্যই পোট্রেইট অ্যাঙ্গেলে (লম্বালম্বি)ধরতে হবে। ২ নং উদাহরণ দেখুন।

ছবির কম্পোজিশন আরও ফাটাফাটি করার জন্য আপনি কাউন্টারপয়েন্ট-এর সাহায্যও নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ছবিতে মূল সাবজেক্টকে রাখুন গোল্ডেন রুলস অনুযায়ী। আর দ্বীতিয় সাবজেক্টকে রাখুন তার কোনাকুনি বরাবর এক নং ছেদবিন্দুতে। আরও ভালভাবে বোঝার জন্য ২.১ নং উদাহরণ দেখুন।

প্যানিং (Panning Photography) এর ক্ষেত্রেও আপনি রুল অফ থার্ডস ব্যবহার করতে পারেন। গতিমান ছবিতে সাবজেক্টকে ছেদবিন্দুতে রাখা কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে। তবে, স্থির জায়গা অথবা ট্রিপডের ব্যবহার এবং পোস্ট প্রসেসিং এর সময় ক্রপিং এর সাহায্য নিলে, ভাল একটা প্যানিং ফটোগ্রাফ বের করা সম্ভব। উদাহরণ ৩ দেখুন।

ফ্লাওয়ার ফটোগ্রাফিতেও (Flower Photography) রুল অফ থার্ডের ব্যবহার এনে দিতে পারে ভিন্ন আমেজ। পার্থক্যটা বোঝার জন্য উদাহরণ ৪ দ্রষ্টব্য।

 

সবশেষে বলতে চাই, যদি এমন ছবি তুলতে চান যেখানে সাবজেক্ট বলে আলাদা কিছু নেই, পুরোটাই সাবজেক্ট অথবা পুরো দৃশ্যপট জুড়ে অসংখ্য সাবজেক্ট তাও আবার সমধর্মী কিংবা অ্যাবস্ট্রাক্ট ফটোগ্রাফি (Abstract Photography) করতে চাচ্ছেন। কি করবেন? আলোর দিকে খেয়াল রাখুন। প্রতিফলণের দিকে খেয়াল রাখুন। রঙের দিকে খেয়াল রাখুন। আপনার সৃষ্টিশীলতাকে ব্যবহার করে এর মধ্য থেকে যে কোন একটাকে রুল অফ থার্ডের আওতায় ফেলে ক্লিক করে ফেলুন। দেখুন ৫ নং উদাহরণে একটি অ্যাবস্ট্রাক্ট ফটোগ্রাফিতে আলোকে কিভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

ক্যামেরার কম্পনঃ

এখন বিষয়টা নিয়ে কথা বলব, তা অনেকের কাছে আপাতদৃষ্টিতে Silly মনে হতে পারে। কিন্তু একজন সত্যিকারের ফটোগ্রাফারের কাছে বিষয়টির গুরুত্ব অনেক।

বিষয়টি হচ্ছে ক্যামেরা কেঁপে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচার উপায়।

প্রথমত বলে নেই, যারা প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার তারা বেশিরভাগই Tripod অথবা Monopod সাথে নিয়ে ঘোরেন। তবে এমন অনেক পরিস্থিতিই আছে যখন Tripod অথবা Monopod বহন করার সময়-সুযোগ হয়ে উঠে না। অ্যামেচার অথবা শখের ফটোগ্রাফাররা তো Tripod অথবা Monopod ব্যবহার করে না বললেই চলে। আর যারা PnS/Compact ক্যামেরা ব্যবহার করেন তাদের জন্য Tripod অথবা Monopod ব্যবহার যেন “বার হাত কাঁকুড়ের তের হাত বিচি”।

Tripod অথবা Monopod এর ব্যবহার পরের কোন এক লেখায় বিস্তারিত লিখব। আজ শুধু বলব কিভাবে বুদ্ধি খাঁটিয়ে শুধু কৌশলের জোরে কাঁপুনিবিহীন ছবি তোলা যায়।

১। আপনাকে ফোকাল লেন্থের সাথে মিলিয়ে শাটার স্পিড বাছাই করতে হবে। যেমনঃ আপনি যদি ১০০ মিমি লেন্স ব্যবহার করেন, তাহলে শাটার স্পিড কোন ক্রমেই ১/১০০ সেকেন্ডের বেশি রাখবেন না। ফটোগ্রাফির প্রয়োজনে যদি রাখতেই হয় তবে Tripod অথবা Monopod ব্যবহার করবেন কিংবা নিচের কৌশলগুলো থেকে চাহিদামাফিক যে কোনটা ব্যবহার করবেন।

২। ক্যামেরা সঠিক নিয়মে ধরতে হবে এবং একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারের কায়দায় দাড়াতে হবে। ডান হাতের তর্জনী থাকবে শাটারে (আলতোভাবে), বুড়ো আঙ্গুল ক্যামেরার পেছনে আর বাকি তিন আঙ্গুল সামনে। এগুলা অবশ্য পোলাপানেও জানে। যাহোক, যদি DSLR ব্যবহার করেন, তাহলে বাম হাত থাকবে লেন্সের শেষ মাথায় অথবা লেন্সের তলায়ও হাত রেখে support দিতে পারেন। Pns/Compact ক্যামেরার ক্ষেত্রে হাত ক্যামেরার তলায় রাখলে ভালো support পাবেন। কখনই ভাব মারতে গিয়ে একহাতে ক্যামেরা ধরবেন না। ক্যামেরায় Viewfinder  থাকলে ডান চোখে  চেপে ধরবেন (বেশি শক্ত কইরা ধরতে যায়া আবার চোখ কানা কইরা ফেইলেন না) আর Compact ক্যামেরার ক্ষেত্রে Display চোখ বরাবর ১৫ সেমি দূরে রাখবেন। বাম পা (ডান পা হলেও তেমন সমস্যা নাই) ডান পা থেকে আধকদম দুরত্বে রেখে দাড়াবেন এবং বাঁহাত অবশ্যই পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ছাড়িয়ে যাবে না অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই সামনে ঝুঁকে দাড়াবেন না। এখন আপনার মনে হতেই পারে “এত প্যাকনা!? ক্যামনে কী”। ভাইরে প্রথমবার যখন বাইক চালানো শিখতে যাই ভাবছিলাম এতো কিছু কিভাবে মনে রাখব? গিয়ার, ক্লাচ, পিকাপ, ব্রেক…। আর এখন তো ব্রেনই বাইক চালায়, আমি সচেতনভাবে কিছুই করি না। এটাকে বলে ইন্সটিংক্ট। কয়েকদিন চর্চা করলে ক্যামেরা ধরার এসব নিয়ম এমনেই আয়ত্বে এসে যাবে।

৩। সাথে Tripod অথবা Monopod না থাকলে, উঁচু কোন স্থির বস্তুর উপর ক্যামেরা রেখে শ্যুট করতে পারেন। হাতের কাছে উঁচু কোন surface না থাকলেও সমস্যা নেই। আপনার পুরো শরীর/কাঁধ/হাত কোন দেয়াল অথবা গাছের গায়ে ঠেকিয়ে ক্লিক করুন।

৪। এইবার ধরেন আপনি মরুভুমিতে দাঁড়িয়ে আছেন- গাছও নাই, দেয়ালও নাই আর আপনার Tripod  চোরে নিয়া গেছে। এদিকে সামনে সিরাম একটা সাবজেক্ট। কি করবেন? Just Kidding! কোন কিছু না থাকলেও শুধু কৌশলের জোরে কিভাবে ক্যামেরার কাঁপুনি কমানো যায় তাই এখন বলব।

(ক) স্নাইপাররা গুলি করার সময় যে কৌশল অবলম্বন করে, আপনিও তাই করতে পারেন। শ্বাস ছাড়ুন। দম বন্ধ করুন। ক্লিক করুন, তারপর আবার শ্বাস নিন। এই কৌশল নিচের প্রতিটি ক্ষেত্রে পালনীয়।

(খ) পকেটে আপনার সমান উঁচু দড়ি/ ফিতা/ সুতলি রাখুন। ছবি তোলার সময় এক মাথা হাল্কা করে বাঁধুন লেন্সের মাথায়। অন প্রান্ত ছেড়ে দিন এবং পা দিয়ে চেপে ধরুন। ক্যামেরা ধরুন চোখের সামনে। দড়ি টান টান করুন (খুব জোরে নয়)। ব্যাস ক্লিক। (পাশের ছবির মত)

(গ) দুই কনুই শরীরের সাথে একদম লাগিয়ে শ্বাস বন্ধ করে ক্লিক করুন। (বাম পাশের ছবির মত)

(ঘ) খালেদ মাহমুদ সুজন যেভাবে বোলিং করত সেভাবে দাড়ান। এক কাঁধ উঁচু করে ধরুন। বাম হাত বুকের সাথে ঠেসে ধরুন আর ডান হাত বুক থেকে সরিয়ে রাখুন। এবং ক্লিক। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা হল আপনাকে বা’চোখে শ্যুট করতে হবে। (ডান পাশের ছবির মত)

(ঙ) মাটিতে এক পা বিছিয়ে বসুন। অন্য পা খাড়া রাখুন। কনুই রাখুন খাড়া করা হাঁটুর উপর। ব্যস তৈরি হয়ে গেল আপনার God gifted Tripod। ব্যবহার করুন। (বাম পাশের ছবির মত)

(চ) উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন বাংলা সিনেমার নায়িকাদের স্টাইলে। দুই কনুইয়ের উপর ভর দিয়ে ক্লিক করুন। (ডান পাশের ছবির মত)

(ছ) বাম হাত উঁচু করে ডান হাতের উর্ধাংশ চেপে ধরুন। ভাবটা এমন বগলের গন্ধ টেস্ট করছেন। এইবার সদ্য তৈরি বাম হাতের Surface এ ক্যামেরা রেখে শ্যুট করুন। (বাম পাশের ছবির মত)

(জ) অ্যা…ইয়ে…বাম দিকে তাকিয়ে টয়লেট করার ভঙ্গিতে বসুন। বাম কনুই হাটুঁর উপর রেখে ক্যামেরার লেন্সকে কাঁধে Support দিন। ক্লিক করুন। (ডান পাশের ছবির মত)

৫। সচরাচর নবীশরা দুইটা ভুল করে যাতে ছবি পুরোই ব্লার হয়ে যায়। এক হল গায়ের জোরে শাটার চাপা আর এক হচ্ছে ক্লিক করেই ক্যামেরা সরিয়ে ফেলা। পরিশেষে, বলতে চাই নাইট ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে উপরের টিপসগুলো খুবই সহায়ক হবে বলে মনে হয়। 

লেন্স ও ফোকাল লেন্থ পরিচিতিঃ

এই বিষয়টা আসলে নবীশদের জন্য ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে জানা থাকলে পরবর্তীতে ক্যামেরা কেনার সময় লেন্স নির্বাচনে এবং পরবর্তীতে ছবি তোলার সময় সঠিক শাটার স্পিড নির্বাচনে বেশ কাজে দেবে।

লেন্স কাকে বলে সেই বেহুদা প্যাঁচালে গেলাম না। তবে লেন্স কত প্রকার সেইটা জানার দরকার আছে।

মুলত লেন্স দুই প্রকার। প্রাইম এবং জুম। প্রাইম লেন্সে ফোকাল লেন্থ স্থির বা অপরিবর্তনশীল আর জুম লেন্স হল অস্থির (!) বা চাহিদা মোতাবেক পরিবর্তনশীল। এখন প্রশ্ন আসে ফোকাল লেন্থ টা কি বস্তু? টেকনিক্যালি যদি লিখতে যাই তাহলে আরেকটা আর্টিকেল লিখতে হবে। আমি বরং “থ্রি ইডিয়ট্‌স্‌” এর আমির খান স্টাইলে বলি। অনেকে মনে করে ফোকাল লেন্থ মানে লেন্সটা আসলে কতটুকু মোটা/বড় (একসময় আমিও তাই মনে করতাম, কারন লেন্সের স্পেসিফিকশনে লেখা থাকে ৫০ মিমি বা ২০০ মিমি)। প্রকৃতপক্ষে, ফোকাল লেন্থ হল আপনার ক্যামেরার সেন্সর থেকে যে দৃশ্যের ছবি তুলছেন ক্যামেরার ভিতর তৈরি হওয়া সেই দৃশ্যের প্রচ্ছায়ার মধ্যবর্তী দুরত্ব।

প্রাইম লেন্সের সুবিধা হল- জুম লেন্স থেকে বড় অ্যাপার্চার পাবেন (ছোট f সংখ্যা), উন্নত বুকেহ্‌ বা “শ্যালো ডেপ্‌থ অফ ফিল্ড” পাবেন ও কম আলোতে কম শাটার স্পিড দিয়েও কম্পনহীন ছবি তুলতে পারবেন। এর ওজনও জুম লেন্স থেকে কম। আর অসুবিধা হল আপনাকে ম্যানুয়ালি জুম(!) করতে হবে অর্থাৎ জুম করার জন্য পায়ে হেঁটে সাবজেক্টের কাছে যেতে হবে অথবা একটা টেলিফটো প্রাইম লেন্স লাগাতে হবে। অন্যদিকে জুম লেন্সের সুবিধা-অসুবিধা হল……বাদ দিন, বুঝতেই তো পারছেন- উল্টোটা।

আমরা মানুষেরা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ২২-২৪ ফোকাল লেন্থের ইমেজ দেখতে পাই। ১৭ মিমি থেকে ২৪ মিমির ইমেজ দেখতে পাইনা কিন্তু ছায়া ধরতে পারি। বইয়ের ভাষায় “হটাৎ মাসুদ রানা চোখের কোণে কিসের যেন নড়াচড়া দেখতে পেল”। অর্থাৎ ২৪ মিমি লেন্সকে আপনি ক্যামেরার স্ট্যান্ডার্ড ধরতে পারেন। অর্থাৎ খালি চোখে আপনি যতটুকু দেখতে পাচ্ছেন ততটুকু দৃশ্য ক্যামেরায় ধরতে হলে আপনার অন্তত ২৪ মিমি লেন্স লাগবে। যদিও লেন্স প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ৩৫-৫০ মিমি লেন্সকে স্ট্যান্ডার্ড, এর কম হলে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল আর ৭০ মিমির বেশি হলে সেটাকে টেলিফটো লেন্স বলে। ১৬ মিমির নিচের লেন্সগুলোকে আপনি আল্ট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল অথবা ফিশ আই লেন্স বলতে পারেন।

তাহলে, কি দাড়াচ্ছে? আমি যদি একজন সিরিয়াস ফটোগ্রাফার হতে চাই তবে অবশ্যই একগাদা প্রাইম লেন্স কিনতে হবে, সাথে একটা জুম লেন্সও। তার চেয়ে একটু নিম্নমানের ফটোগ্রাফার হতে চাইলে লাগবে শুধু একটা ভালো জুম লেন্স। আর শখের ফটোগ্রাফার হতে চাইলে কিনতে হবে এমন একটা কমপ্যাক্ট ক্যামেরা যেটায় অন্তত ২৪ মিমি থেকে শুরু করে ২০০ মিমি জুম লেন্স রয়েছে।

এবার অল্প কথায় ফোকাল লেন্থের সাথে শাটার স্পিডের সম্পর্কের ব্যাপারে আসি। যখন আপনি ৫০ মিমি লেন্সে ট্রিপড ছাড়া কম্পনহীন ছবি তুলতে চাইবেন তখন খেয়াল রাখতে হবে আপনার শাটার স্পিড যেন ১/৫০ এর চেয়ে বেশি না হয় (বেশি মানে ১/৪০, ১/২০, ১ , ২ ইত্যাদি)। বাকি রেশিওগুলা আপনারা ঐকিক নিয়মে বের করে নিয়েন।

এইবার একটা বিদায়ী জোকস। প্রশ্ন করা হল- একজন গানম্যান, একজন প্লেবয় আর একজন ফটোগ্রাফার এর মধ্যে কে বেশি ক্ষমতাবান। উত্তরঃ অবশ্যই ফটোগ্রাফার। ক্যামনে? কারন সে সবচেয়ে বেশি গতিতে আর সবচেয়ে দূরে শ্যুট করতে পারে।

** আমরা খুব শীঘ্রই “প্রোডাক্ট রিভিউ” পেইজে সবচেয়ে সাশ্রয়ী কিন্তু ভাল মানের ক্যামেরার রিভিউ নিয়ে আসতে চেষ্টা করব।

এধরণের অন্যান্য পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.