Menu Close

Cyberpunk 2077 – এ বছরের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত গেইম

Cyberpunk 2077 গেইমের স্টোরিলাইন শুরু হয় ১৯৯০ এ একটি অলটারনেট টাইমলাইনে যেখানে কোন এক মহাযুদ্ধের কারণে পৃথিবীর সুপারপাওয়ারগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়ে জন্ম নেয় মেগাকর্পোরেশন নামের কতগুলো বিচ্ছিন্ন প্রশাসন। একদল কিভাবে আরেক দলকে টপকে কিভাবে ক্ষমতার শিখরে থাকবে সেই কোন্দলেই তারা ব্যস্ত থাকে। ওদিকে ফসলে মড়ক লেগে পৃথিবীতে নেমে এসেছে ভয়ানক দুর্ভিক্ষ। যুদ্ধের ভয়াবহতায় মধ্যপ্রাচ্য তখন পরিণত হয়েছে তেজস্ক্রিয় এলাকায়। যুদ্ধের প্রয়োজনে আবিষ্কৃত বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এর কল্যাণে সাইবারনেটিকস্‌, কৃত্রিম অঙ্গ, মেশিন ও মানুষের ইন্টারফেস ইত্যাদি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কেন্দ্রীয় কোন শাসন ব্যবস্থা না থাকায় সব জায়গায় চলছে অরাজকতা। পাশাপাশি ‘টেকনোশক’ নামে আরও একটি সমস্যার উদ্ভব হয়েছে – মানুষদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এই  কৃত্রিম পেশী, টিস্যু, জৈবিক সার্কিট আর ডিজাইনার ড্রাগের দুনিয়ার সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না।

Cyberpunk 2077 - পূর্বকথনঃ

উপরের প্লটের উপর ভিত্তি করেই ১৯৮০ সালে রোল-প্লেয়িং বোর্ড গেইম ডিজাইনার মাইকেল অ্যালেন পন্‌ডস্মিথ এর হাতে জন্ম হয় টেবল্‌-টপ ঘরানার রোল-প্লেয়িং গেইম  সাইবারপাঙ্ক এর। ১৯৮০ র দশকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীগুলোতে সাইবারনেটিক্‌স কে যে ভয়াবহভাবে ফোকাস করা হচ্ছিল তারই অনুসরণ করে পন্‌ডস্মিথ সাইবারপাঙ্ক ডিজাইন করেন। এর জন্য ওয়াল্টার জন উইলিয়ামস্‌ এর লেখা উপন্যাস ‘হার্ডওয়্যার্ড’ ছিল তার মূল উপজীব্য। এছাড়া হ্যারিসন ফোর্ড অভিনীত ব্লেড রানার মুভিটি থেকেও যথেষ্ট অনুপ্রেরনা পেয়েছিলেন তিনি। অনেকেই ধারণা করেন উইলিয়াম গিবসনের উপন্যাস ‘নিউরোম্যান্সার’ এর ছায়া অবলম্বনে সাইবারপাঙ্ক তৈরি করেছিলেন পন্‌ডস্মিথ। কিন্তু সে কথা উড়িয়ে দেন পন্‌ডস্মিথ নিজেই। তিনি বলেন সাইবারপাঙ্ক তৈরির আরও বহু পরে উপন্যাসটি পড়েছিলেন তিনি।

Cyberpunk 2077 - ভিডিও গেইমের জগতেঃ

রোল প্লেয়িং বোর্ড গেইম হিসেবে অকুন্ঠ প্রশংসা কুড়ায় সাইবারপাঙ্ক। বিশেষ করে এর বৈচিত্রময় স্টোরিলাইন মুগ্ধ করে খেলোয়াড়দের। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের অক্টোবরে পোলিশ ভিডিও গেইম ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান “সিডি প্রজেক্ট রেড” এটাকে ভিডিও গেইম হিসেবে প্রকাশ করার জন্য কাজ শুরু করে। নাম দেয় Cyberpunk 2077। ২০১৩ সালের ১১ই জুন তারা প্রকাশ করে ২ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি ছোট্ট টিজার ট্রেইলার। আর তাতেই মাথা ঘুরে যায় দুনিয়াব্যাপী গেইমারদের। অসাধারণ গ্রাফিক্সের সাথে তাল মিলিয়ে মনোরম মিউজিক আর কৌতুহল উদ্রেককারী গল্পের টানে ইউটিউবে টিজার ট্রেইলারটির ভিউ বাড়তে থাকে হু হু করে। এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লক্ষবারের বেশি দেখা হয়েছে টিজার ট্রেইলারটি।

কিন্তু ঐ পর্যন্তই শেষ। গেইমারদের সামনে মূলো ঝুলিয়ে রেখে বছরের পর বছর পার করে দিতে থাকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিডি প্রজেক্ট রেড। ৫ বছর পর ২০১৮ সালে ইলেকট্রনিক এন্টারটেইনমেন্ট এক্সপো (ই থ্রি) উপলক্ষে প্রকাশ পায় Cyberpunk 2077 এর দ্বিতীয় ট্রেইলার। হুমড়ি খেয়ে পড়ে সারা বিশ্বের গেইমাররা। এখন পর্যন্ত ট্রেইলারটির ভিউ ১ কোটি ৮৮ লাখেরও বেশি। কিছুদিনের মধ্যেই ৪৮ মিনিটের একটি ওয়াক থ্রুও আপলোড করে  সিডি প্রজেক্ট রেড এবং নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক গেইম সংশ্লিষ্ট ভিডিও ক্লিপ্‌স প্রকাশ করতে থাকে।  মুলত এই ক্লিপসগুলো থেকেই গেইমাররা গেইমটি সম্পর্কে বিশদ ধারণা পায় যা তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার কষ্টকে কিছুটা হলেও দমিয়ে দেয়। এদিকে পরের বছরের ইথ্রি ২০১৯ এ আরেকটি ট্রেইলার প্রকাশ করা হয়, যেখানে গেইমের অন্যতম চরিত্র জনি সিল্ভারহ্যান্ড হিসেবে ফিচার করা হয় কিয়ানু রিভ্‌সকে। জন উইকের লুকে কিয়ানু রিভ্‌সের কন্ঠে বলা সেই ডায়ালগ মাতিয়ে তোলে পুরো গেইমার বিশ্বকে “Wake the f*** up Samurai. We have a city to burn!” মাত্র এক বছরেরও কম সময়ে ট্রেইলারটির ভিউ ছাড়িয়ে গেছে ১ কোটি ২৪ লাখেরও বেশি।

চলুন তবে দেখা যাক কি কি থাকছে এই বহু প্রতীক্ষিত এই গেইমে।

স্টোরি বিল্ডআপঃ

আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেল্‌স আর সান ফ্রান্সিস্কোর মাঝামাঝি জায়গা নর্থ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ৫ মিলিয়ন লোকের এক কাল্পনিক শহর ‘নাইট সিটি’। গ্যাংগুলোর মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি, কর্পোরেট যুদ্ধ আর রাজনৈতিক চক্রান্তে ডুবে থাকা সেই ডিস্টোপিয়ান রাজ্যে গেইমের প্রধান চরিত্রকে বেঁচে থাকতে হবে।

ক্যারেক্টার বিল্ডআপঃ

Cyberpunk 2077 মূলত রোল-প্লেয়িং গেইম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ, শুরুতেই প্লেয়ারকে ক্যারেক্টার বিল্ড-আপ করে নিতে হবে। গেইমের প্রধান চরিত্র V এর বিপরীতে আপনি মেল কিংবা ফিমেল যে কোন ক্যারেক্টার বিল্ড করতে পারবেন। পরবর্তী ধাপে আপনাকে ক্যারেক্টারের ব্যাকস্টোরি সেট করে নিতে হবে।

৩টি ক্যাটাগরি – চাইন্ডহুড হিরো, কী লাইফ ইভেন্ট এবং হোয়াই নাইট সিটি? -এর প্রতিটিতে ৩টি করে অপশন রয়েছে। আপনাকে প্রতি ক্যাটাগরি থেকে ১টি করে অপশন বেছে নিতে হবে। খুব চিন্তা-ভাবনা করে অপশন বাছাই করতে হবে। কেননা এই নির্বাচনের উপর ভিত্তি করেই আপনার গেইম স্টোরির ধরণ কেমন হবে তা নির্ধারিত হবে।

ব্যাকস্টোরি সেটআপ করার পরের ধাপে ক্যারেক্টারের শরীর কাস্টোমাইজ করে নিতে হবে। আপনি ক্যারেক্টারের চেহারা, চুল, চোখের রঙ থেকে শুরু করে নাক, চোখ, মুখ, চোয়াল ইত্যাদির আকার পরিবর্তনসহ গায়ের রঙ পর্যন্ত কাস্টোমাইজ করে নিতে পারবেন। এমনকী শরীরে ক্ষতচিহ্নও তৈরি করে নিতে পারবেন।

পরবর্তী ধাপ থেকে ক্যারেক্টারের স্টাইল, কাপড়-চোপড়ের ফ্যাশন, মেকআপ, বডি পিয়ার্সিং, ট্যাটু এসবও সেট করে নেয়া যাবে। সর্বশেষ ধাপে রয়েছে স্কিল পয়েন্ট সেট করা। অর্থ্যাৎ, স্ট্রেংথ্‌, ইন্টেলিজেন্স, রিফ্লেক্স, টেক স্কিল ইত্যাদি। তবে অন্যান্য আরপিজি গেইমের মত এখানে আপনাকে কোন ক্লাস নির্বাচন করতে হবে না। গেইমের স্টোরি বিল্ডআপের সাথে সাথে বিভিন্ন সময়ে ক্যারেক্টারের ক্লাস বেছে নেয়া যাবে।

কমব্যাট স্টাইলঃ

মূলত রোল-প্লেয়িং হলেও গেইমটিতে যথেষ্ট ফার্স্ট পারসন শুটার এলেমেন্ট রয়েছে। ফিউচারিস্টিক স্মল আর্মস থেকে শুরু করে টেক শটগান, স্মার্ট গান, কর্পোরেশন টেক রাইফেল, গ্রেনেড ব্যবহার করা যাবে। মনে রাখতে হবে কর্পোরেশন ওয়েপনগুলো হচ্ছে টপ টিয়ারের অস্ত্র। রেগুলার মোডের সাথে অধিকাংশ অস্ত্রেই অলটারনেট মোডও থাকবে। যেমন টেক শটগানে রয়েছে বার্স্ট শট যার মাধ্যমে দেয়ালের আড়ালে থাকা শত্রুকেও ঘায়েল করা যাবে। আবার পাওয়ার আপ শটে বেশি ড্যামেজ করা যাবে। অন্যদিকে স্মার্ট গানে রয়েছে টার্গেটকে অটোমেটিক ট্র্যাক ও ফলো করে ঘায়েল করার সুবিধা। পাশাপাশি, সবক’টি অস্ত্রেই রয়েছে কেরেজ্‌নিকভ নামে স্লো-মোশন ফায়ারিং এর ব্যবস্থা। বাড়তি পাওনা হিসেবে থাকছে ম্যান্টিস ব্লেড নামে মরণঘাতী মিলি ওয়েপন।

গেইমে বিভিন্ন সাইড মিশন কমপ্লিট করার বিনিময়ে আপনি পাবেন স্ট্রিট রেপুটেশন বা এক্সপেরিয়েন্স পয়েন্ট এবং তথাকথিত মুদ্রা – এডি। এর বিনিময়ে লিগ্যাল ‘রিপারডক’ অথবা ব্ল্যাক মার্কেট থেকে অস্ত্র ও বিভিন্ন ইমপ্ল্যান্ট কিনতে ও আপগ্রেড করতে পারবেন। ভিন্ন ভিন্ন ধরণের আপগ্রেডে কমব্যাটের সময় বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যাবে।  যেমন ‘কিরোশি’ অপটিক্যাল স্ক্যানার ইমপ্ল্যান্ট করা থাকলে রিকোশেট নামের অপশনটি ব্যবহার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে কভারে থাকা শত্রুর বিপরীত দিকের দেয়ালে বুলেট বাউন্স করিয়ে শত্রুকে ঘায়েল করতে পারবেন। আবার ‘সাবডার্মাল ওয়েপন গ্রিপ’ নামের ইমপ্ল্যান্ট আপনার স্ক্যানারের সাথে লিঙ্ক করে হাতে থাকা অস্ত্রের বুলেট কাউন্ট, ফায়ার মোড ইত্যাদি গেইম স্ক্রিনে দেখাবে। সেই সাথে ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করা অবস্থায় সকল অস্ত্রের বেইজ ড্যামেজও বেড়ে যাবে।

আপনি দূর থেকে মিশন এরিয়া যাচাই করতে পারবেন। অন্যান্য এন্‌পিসির ক্যারেক্টার অ্যানালাইসিস করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। যেমন ক্যারেক্টার কিভাবে আপনাকে আঘাত করবে – মিলি অ্যাটাক নাকি থার্মাল অ্যাটাক। শত্রুর কি কি রেজিস্ট্যান্স রয়েছে, দুর্বল জায়গা কয়টা ও কোথায় কোথায়, শ্ত্রুর আক্রমণ এড়াতে আপনাকে কি করতে হবে ইত্যাদি। মিশনগুলো লেথাল – নন লেথাল দু’ভাবেই কমপ্লিট করা যাবে। আপনার সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে গেইমের স্টোরিলাইন পরিবর্তন হয়ে যাবে। 

স্টেল্‌থ কিলের মাধ্যমে শত্রুর ইমপ্ল্যান্ট নেটওয়ার্কে কানেক্ট হয়ে উপযুক্ত কনসোলের মাধ্যমে শত্রু গ্যাঙের মূল নেটওয়ার্কে ঢুকে ভাইরাস আপলোড করা যাবে। ফলে পুরো সিস্টেমের যে কাউকে যখন তখন হ্যাক করা যাবে। তাদের শরীর ও ওয়েপনের মধ্যকার লিঙ্ক হ্যাং করে দিয়ে ম্যান্টিস ব্লেড ব্যবহার করেই কচুকাটা করে ফেলা যাবে সবাইকে।

গেইম এনভায়রনমেন্টঃ

সামুরাই নামের জ্যাকেটটি ক্যারেক্টারের ডিফল্ট পোশাক। এটি যেমন আর্মার হিসেবে কাজ করবে তেমনি স্ট্রিট রেপুটেশনও বুস্ট করবে। ছয়টি বিশাল অঞ্চল নিয়ে Cyberpunk 2077 এর ওপেন ওয়ার্ল্ড ম্যাপ। এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যেতে কোন লোডিং স্ক্রিন পার করতে হবে না। গেইমের প্রধান চরিত্র  মেগাবিল্ডিং নামের মাইক্রো সোসাইটিতে বাস করে। বাহারি রকম এনপিসি আর ফুল ডে-নাইট সার্কেল রয়েছে গেইমটিতে। গেইম এনভায়রনমেন্টও বেশ ইন্টার-অ্যাক্টিভ। যেমন আপনাকে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে গ্রিন লাইট থাকা অবস্থায় রাস্তা পার হতে হবে। আবার ধরুন, কোন গ্যাঙের সাথে মিশনের খাতিরে মারামারিতে জড়িয়েছেন। দেখা যাবে ড্রাইভিং করার সময় র‍্যান্ডমলি ঐসব গ্রুপের কেউ কেউ আপনাকে গানিং অ্যান্ড কার চেসিং এর মাধ্যমে আক্রমণ করে বসেছে। এখানে বলে রাখি, গেইমটিতে যথেষ্ট পরিমাণে অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট রয়েছে। উইচার থ্রি ওয়াইল্ড হান্টের চেয়েও রগরগে ও বৈচিত্রময় রোমান্সের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। গেইমটির কোয়েস্ট ডিজাইনার প্যাট্রিক মিল্‌স বলেন “জেরাল্টের ক্যারেক্টারটির রোমান্স/সেক্সুয়ালিটি, এর আগের গেইম, ছোট গল্প ও উপন্যাসের মাধ্যমে অনেকটা সুনির্দিষ্ট করাই ছিল। কিন্তু এই গেইমে সেটা আপনার হাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখানে যেমন স্ট্রেইট এনপিসি রয়েছে, তেমনি সমকামী এমনকী দ্বৈতকামী এনপিসিও রয়েছে। তাদের আবার সঙ্গী নির্বাচনের কতগুলো নিয়মও রয়েছে। আমরা চেয়েছি যেন গেইমাররা বাস্তবতার স্বাদ পায়।’ গেইম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে এটাও বলা হয়েছে যে, চাইলে প্লেয়ার তার চাহিদামত অর্থবহ সম্পর্কে জড়াতে পারবে আবার চাইলে ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডও বেছে নিতে পারবে। তাই ১৮ বছরের নিচের কারো গেইমটি খেলা মোটেও উচিৎ হবে না।

বিবিধঃ

Cyberpunk 2077 গেইমের একজন গুরুত্বপূর্ণ এনপিসি জ্যাকির একটি সুপার স্পোর্টস্‌কার রয়েছে যেটি আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। গাড়িটি ফিউচার ফুয়েল চুহ্‌টু (CHOOH2) তে চলে। এই সুপার কারটি ছাড়াও আরও হরেক রকম চোখ ধাঁধানো গাড়ি রয়েছে গেইমটিতে। ম্যাড ম্যাক্স ফিউরি রোডের ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে সাইবারপাঙ্কের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকদিন আগে একটি টুইট করা হয় যেখানে ম্যাড ম্যাক্সের গাড়িটির মত একই মডেলের একটি গাড়ির ইন-গেইম ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করা হয়। সেখানে বলা হয়  গাড়ির ঐ মডেলটি গেইমে রেইথ গ্যাং এর একটি কাস্টম বিল্ড কার হিসেবে থাকবে। কুয়াড্রা টাইপ-৬৬ এর গাড়িটির ক্ষমতা হবে ১০০০ হর্স পাওয়ার।

অন্যান্য আরপিজি গেইমের মত সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭ এও ডায়ালগ পছন্দ করার অপশন রয়েছে। তবে সেটা আরও উন্নত। আপনি গেইমের অন্যান্য ইন্টারঅ্যাকশনের সাথে সাথে ডায়ালগ চালিয়ে যেতে পারবেন। গেইম পস্‌ড হয়ে থাকবে না। অস্ত্র ও অন্যান্য লুট সংগ্রহ করা যাবে। হ্যাকিং করা যাবে। ইঞ্জিয়ানিয়ারিং স্কিল ব্যবহার করা যাবে। ডাব্‌ল জাম্প ও ওয়াল রান করে শত্রুর ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়াও যাবে। 

হাড ডিসপ্লের উপরে ডানদিকে কারেন্ট অবজেক্টিভ ও অন্যান্য তথ্য দেখাবে। বামদিকে হেলথ বার, স্ট্যামিনা/কেরেজ্‌নিকভ বার ও আর্মার দেখাবে। এছাড়া কারেন্ট অবজেক্টিভ ইন-গেইম স্ক্রিনেই দুরত্বসহ মার্ক করে দেখাবে।

Cyberpunk 2077 - সিস্টেম রিকোয়ারমেন্টঃ

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিডি প্রজেক্ট রেড এখনও কোন নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন ঘোষনা করে নি। কেন করেনি সেটাও অন্য একটি পোস্টে কিছুটা খোলাসা করার চেষ্টা করেছি। ওদিকে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের আশায় বসে না থেকে দুনিয়াজোড়া টেকবোদ্ধারা ইতিমধ্যে এ ব্যপারে যথেষ্ট গবেষণা করে ফেলেছে। এবং ৯৫% ক্ষেত্রেই তাদের এই অনুমান সঠিক হয়েছে বলে প্রমানিত। আসুন দেখে নেই কি সেই অনুমিত স্পেকস্‌ঃ

ComponentsMinimum RequirementsRecommended Requirements
CPUIntel Core i5-2500K 3.3GHz / AMD FX-8320Intel Core i5-4670K 3.4GHz / AMD Ryzen R5 1600
RAM8 GB16 GB
HDD70 GB of space70 GB of space
GPUAMD Radeon R9 380 or NVIDIA GeForce GTX 960 2GBAMD Radeon RX Vega 64 8GB or NVIDIA GeForce GTX 1070 6GB
DirectXDirect X: Version 10Direct X: Version 11
OSWin 10 64Win 10 64

কোথায় পাবেনঃ

২বার তারিখ পেছানোর পর, অবশেষে আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর গেইমটি ওয়ার্ল্ডওয়াইড রিলিজ পেতে যাচ্ছে। স্টিম, এপিক গেইমগগ এ ডিজিটাল পিসি ভার্সন পাওয়া যাবে। ডিজিটাল পিএস৪এক্সবক্সওয়ান ভার্সন পাওয়া যাবে এগুলোর ডেডিকেটেড স্টোরে। এছাড়া সবগুলোর রিটেইল ভার্সন পাওয়া যাবে অ্যামাজন, বেস্ট বাইগেইম স্টপে। 

আপডেটঃ

৩য় বারের মত রিলিজ ডেট পেছালো সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭ এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিডি প্রজেক্ট রেড। এবার রিলিজ ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯শে নভেম্বর, ২০২০। দেখা যাক গেইমটি এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার সঠিক প্রতিদান দিতে পারে কি না।

1 Comment

  1. Pingback:NVIDIA Ampere - নেক্সট জেনারেশন জিপিইউ আর্কিটেকচার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.