Menu Close

Samsung A20s – একটি পক্ষপাতহীন রিভিউ

Samsung A20s ২০১৯ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশ করা কোরিয়ান টেক জায়ান্ট স্যামসাং এর একটি লোয়ার মিড রেঞ্জের বাজেট ফোন। বাংলাদেশের বাজারে ফোনটি পাবেন নীল ও সবুজ দু’টি রঙে। ৩জিবি র‍্যাম ও ৩২জিবি রম ভার্সনের দাম পড়বে ১৫,৯৯৯ টাকা। ৪জিবি র‍্যাম ও ৬৪জিবি রম ভার্সনের দাম নেবে ১৭,৯৯৯ টাকা

Samsung A20s এর স্পেসিফিকেশনঃ

শুরুতেই দেখে নেই ফোনটির বেসিক স্পেসিফিকেশনঃ

SpecificationSamsung A20s
Chipset (SoC)Qualcomm SDM450 Snapdragon 450 (14 nm)
CPUOcta-core 1.8 GHz Cortex-A53
RAM3 and 4 GB
ROM32 GB and 64 GB (expandable upto 512 GB)
GPUAdreno 506
OSAndroid 9.0 (Pie) upgradable to Android 10
UISamsung One
CameraFront 8 Megapixel f 2.0 || Rear 13 Megapixel f 1.8 (Primary) | 8 Megapixel f 2.2 (Wide angle) | 5 Megapixel f 2.2 (Depth sensor)
Battery4000 mAh Lithium ion

Samsung A20s এর সিস্টেম কনফিগারেশনঃ

ফোনটি বাজেট ফোন হিসেবে খুব বেশি চমকপ্রদ না হলেও ফেলে দেবার মতও না। বাজেট মেনে বিল্ড করতে গিয়ে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাংকে অনেক ব্যাপারেই ছাড় দিতে হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল এর ডিসপ্লে। ৬.৫ ইঞ্চি মাপের এ ফোনে ডিসপ্লে হিসেবে আইপিএস টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে এর পূর্বসূরি স্যামসাং A20 তে ব্যবহার করা হয়েছিল অ্যামোলেড ডিসপ্লে। অতএব  শার্পনেস ও কালার কমফোর্টের ক্ষেত্রে অনেক ইউজারেরই কিছুটা অসন্তুষ্টি থাকতে পারে। তবে এ দুঃখ অনেকটাই পুষিয়ে দিবে Samsung A20s এর শক্তিশালী সক (SoC – System on a chip)। SoC টিতে কুয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪৫০ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে । সিপিউ হিসেবে রয়েছে ১.৮ গিগাহার্জ ক্ষমতা সম্পন্ন ৮ কোরের কর্টেক্স-এ৫৩ প্রসেসর। ফলে অনেকগুলো অ্যাপ্‌স একসাথে চালালেও আপনি স্মুথ ফিলিংস পাবেন। সাথে রয়েছে অ্যাড্রেনো ৫০৬ মডেলের জিপিইউ। এর সাহায্য আপনি অনায়াসে লো থেকে মিডিয়াম সেটিংস এ পাবজি, কল অফ ডিউটি মডার্ন ওয়্যারফেয়ার, অ্যাসফল্ট ৯ এর মত আপডেটেড গেইমগুলো খেলতে পারবেন।

অপারেটিং সিস্টেম ও ইউজার ইন্টারফেসঃ

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ৯ পাই ব্যবহৃত হয়েছে। OTA এর মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড এটি অ্যান্ড্রয়েড ১০ এ আপগ্রেড করে নেয়া যাবে। ইউজার ইন্টারফেস হিসেবে রয়েছে স্যামসাং এর নিজস্ব ইউআই ওয়ান। এটি এখন পর্যন্ত নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির সেরা ইউআই। টাচ স্মুথনেস অনেকটাই প্রো ফোনগুলোর মত। তাই সেখানেও Samsung A20s আপনাকে তুষ্ট করবে। ব্যবহার করা যাবে ডুয়াল ন্যানো সিম কার্ড।

স্টোরেজ ও ব্যাটারি ব্যাকআপঃ

৫১২ গিগাবাইট পর্যন্ত মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। পাবেন ৪০০০ মাইক্রো অ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। এটি আপনাকে সারাদিন হেভ্‌ভি লোড দেয়ার পরও লো ব্যাটারি দেখাবে না। গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং, অডিও স্ট্রিমিং, কল্‌স এবং অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন ধুমছে ব্যবহার করেও রাতে গিয়ে ১৫-২০% চার্জ অবশিষ্ট পাবেন। ২ অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন টাইপ সি ইউএসবি চার্জার থেকে ১৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং এর সুবিধা পাবেন। তাতে ০% থেকে ফুল চার্জ হতে সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা লাগতে পারে।

ক্যামেরাঃ

এবার আসি ক্যামেরা প্রসঙ্গে। বাজেট ফোনের ক্যামেরা হিসেবে Samsung A20s এর পেছনের ক্যামেরাটি আহামরি না হলেও সামনের সেলফি ক্যামেরাটি মানানসই। দিনের আলোর পাশাপাশি কম আলোতেও ভালো ছবি তুলতে পারবেন। পেছনে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরার সুবাদে চওড়া ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলের ছবি তোলা যাবে। গ্রুপ ফটো তোলার কাজে সেটা খুব কাজে আসবে। “পিছে ঘোলা হইলে চলব” টাইপ ছবি তেমন প্রফেশনাল কিছু না হলেও কাজ চলে যাবে। কেননা ক্যামেরার ডেপ্‌থ সেন্সর ৫ মেগাপিক্সেলের হওয়ায় এর বকেহ্‌ কোয়ালিটি তুলনামূলক ভাল। তোলা ছবিতে সফ্‌টওয়্যার পোস্ট-প্রসেসিং এর প্রভাব থাকায় ইন্সটাগ্রাম বা ফেসবুকে ছবি ডিরেক্ট পোস্ট না করাই ভাল। তাই এসব ক্ষেত্রে তোলা ছবি আগে অ্যাডোব লাইটরুম বা ফটোশপে পোস্ট-প্রসেস করে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে আপলোড করলে ভাল হয়।

ভিডিও ক্যাপচার  কোয়ালিটি ১০৮০পি ৩০ ফ্রেম রেটে। লো লাইটে পার্ফরমেন্স তেমন ভাল নয়। অতিরিক্ত কোন সুবিধাও নেই। তাই ইউটিউবিং এর জন্য এটা ব্যবহার করা উচিৎ হবে না। মোটকথা, ক্যামেরা পারফর্ম্যান্সে Samsung A20s মানানসই। কারন এই বাজেটে এর থেকে ভাল কিছু পাওয়া সম্ভবও নয়।

বিবিধঃ

অত্যাধুনিক ব্লুটুথ ৫.০ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ফোনটিতে। ভয়েস, ডাটা কানেকশন ও অডিও কোয়ালিটিও মানানসই। ৩.৫ এমএম অডিও জ্যাক রয়েছে। টিপিক্যাল হেডফোন পাবেন বক্সের ভেতর। তবে সেটা ব্যবহার না করে উন্নত মানের ব্লুটুথ হেডফোন ব্যবহার করলে অডিও কোয়ালিটি বেশি ভাল পাবেন। প্রচলিত প্রায় সবগুলো সেন্সরই পাবেন Samsung A20s এ। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের নির্ভুলতা প্রায় ১০০ ভাগ। তবে হাতের পাঞ্জা/থাবা যাদের ছোট তাদের জন্য ফোনটির রিয়ার সাইডে থাকা এ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি নাগালে পেতে বেশ কষ্টই হবে। এক্ষেত্রে ফ্রন্ট ক্যামেরার সাহায্যে ফেস আনলক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন। এটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থেকেও ফাস্ট কাজ করে।

ডিউরেবিলিটির ক্ষেত্রে স্যামসাং আগে থেকেই সেরা। সাথে ডিসপ্লে প্রটেকশান হিসেবে এতে থাকছে গরিলা গ্লাস। তবে ডিসপ্লে ছাড়া বাকিটুকু গ্লসি কালার কোটেড প্লাস্টিক বডি হওয়ায় সফ্‌টকাভার ব্যবহার না করলে স্ক্র্যাচ পড়ে যাবে খুব সহজেই। এছাড়া ডিসপ্লেতে টিয়ার-ড্রপ নচ বা ভি নচ ব্যবহার করা হয়েছে যেটা সেটিংস থেকে অফ করে রাখা যাবে।

২০২০ এ Samsung A20s কেনা কি ঠিক হবে?

এখন সবচেয়ে দামী প্রশ্ন। ২০২০ এর এই মাঝামাঝি এসে আপনি কি Samsung A20s কিনবেন? নাকি এই বাজেটের মধ্যে আরও নতুন রিলিজ পাওয়া শাওমি বা রেডমি ফোনগুলো কিনবেন? সিদ্ধান্ত অবশ্যই আপনার। তবে যদি ঘন্টায় ঘন্টায় সেল্‌ফি তোলার এবং ২-৪ মাস পর পর ফোনের মডেল চেঞ্জ করার মত বাতিক না থাকে, তবে Samsung A20s বছরের এই সময়ে এসেও ভাল একটি চয়েস হতে পারে। অবশ্য ঘাটাঘাটি করলে এই বাজেটে স্যামসাং কে বিট করার করার মত মডেলও যে পাওয়া যাবে না তা নয়। তবে সে আলোচনা তোলা থাক আরেক দিনের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.